বিদেশের চিকি‌ৎসা দেশেই করা সম্ভব

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘যারা বড়লোক, তারা অনেক টাকা খরচ করে বিদেশে চিকিৎসা নিতে পারে। কিন্তু যাদের সেই সামর্থ্য নেই তাদের জন্য দেশেই উন্নত চিকিৎসার ব্যবস্থা করা সম্ভব। বিদেশের মতো দেশে সমমানের চিকিৎসা দেয়া যাবে না- এটা আমি বিশ্বাস করি না।’ বুধবার (৬ এপ্রিল) ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সংলগ্ন সচিবালয় রোডে ‘শেখ হাসিনা ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি’ ভবনের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী এ মন্তব্য করেন। শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমাদের ডাক্তাররা যথেষ্ট মেধাবী। তাদের জন্য সুযোগ সৃষ্টি করে দিতে হবে, উন্নত ব্যবস্থা করে দিতে হবে। আমাদের দেশের মানুষ যেন চিকিৎসাসেবাটা ঠিক মতো পান, সেই লক্ষ্য নিয়ে কাজ করতে হবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘চট্টগ্রাম ও রাজশাহীতে আরও দুটি মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় আমরা করব। সেটা শুধু পোস্ট গ্র্যাজুয়েটদের জন্য। সেখানে নার্সিং ইনস্টিটিউটও থাকবে। সেখানে শুধু উচ্চশিক্ষা এবং গবেষণা হবে। কারণ, নিত্যনতুন রোগ দেখা দিচ্ছে। চিকিৎসাপদ্ধতি পরিবর্তন হচ্ছে। শুধু তাই নয়, বিশ্বের সব নামকরা হাসপাতালের সঙ্গে দেশের হাসপাতালগুলোকে যুক্ত করে চিকিৎসাব্যবস্থা নতুন ধারায় নিয়ে আসা হবে। জেলা ও উপজেলার হাসপাতালগুলোর সঙ্গে মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ওয়েব ক্যামেরা থাকবে। যখন প্রয়োজন হবে, তারা মতামত নেবে, দেখবে। সবকিছু ডিজিটাল পদ্ধতিতে হবে। আমরা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থাকে আরও উন্নত করতে চাই।’

এর আগে প্রধানমন্ত্রী নিজের নামে প্রতিষ্ঠিত ইনস্টিটিউটটির ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি নিয়ে এটাই দেশের প্রথম ইনস্টিটিউট। এটি দেশের মানুষের চিকিৎসাসেবায় বিরাট অবদান রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।বিএনপি-জামায়াতের আন্দোলনের সময় অগ্নিদগ্ধ মানুষের চিকিৎসায় ঢাকা মেডিকেল হাসপাতালে বার্ন ইউনিটের ডাক্তার ও নার্সদের দিন-রাত কর্মরত থাকার কথা স্মরণ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারা দিন-রাত পরিশ্রম করছেন। তাদের এই অমানুষিক পরিশ্রম কত মানুষের জীবন ফিরিয়ে দিয়েছে। আর অনেককে তো বাঁচানো যায়নি। আমি তাদের আন্তরিকভাবে ধন্যবাদ জানাই।’ দেশের প্রতিটি মেডিকেল কলেজে হাসপাতালে বার্ন ইউনিট অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চালুর কথাও জানান শেখ হাসিনা।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘আমরা এগিয়ে যাচ্ছি, পিছিয়ে নেই। সব থেকে সুখবর হচ্ছে, আমাদের টার্গেট অনুযায়ী প্রবৃদ্ধি ৭ ভাগের ওপরে নিয়ে গেছি। আমাদের মাথাপিছু আয় ১ হাজার ৪৬৬ মার্কিন ডলারে উন্নীত হয়েছে। প্রবৃদ্ধি বেড়েছে, তারপরেও মুদ্রাস্ফীতি কম। অর্থনীতির ভিত্তি এখন মজবুত। মানুষের আয়ুষ্কাল বেড়েছে। খাদ্য নিরাপত্তা, চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করেছি। মাতৃমৃত্যুর হার কমেছে, শিশুমৃত্যুর হার কমেছে।’ এসময় মেডিকেল বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় বিশেষ দৃষ্টি দেয়ার আহ্বান জানান তিনি।

অনুষ্ঠানে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের সমন্বয়ক ডা. সামন্ত লাল সেন জানান, দেশে প্রতিবছর গড়ে ছয় লাখ মানুষ বিভিন্নভাবে দগ্ধ হয়। তাদের চিকিৎসার জন্য কমপক্ষে দেড় হাজার ডিগ্রিধারী বিশেষজ্ঞ সার্জন প্রয়োজন হলেও বর্তমানে মাত্র ৫২ জন সেই সেবা দিচ্ছেন। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের অধীনে বর্তমানে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিষয়ে স্নাতকোত্তর এবং মহাখালীর বাংলাদেশ কলেজ অব ফিজিশিয়ানস অ্যান্ড সার্জনস (বিসিপিএস) এফসিপিএস ডিগ্রি দিলেও সেই উচ্চশিক্ষার সুযোগ খুবই সীমিত। নতুন এই ইনস্টিটিউটের যাত্রা শুরু হলে প্রতিবছর গড়ে ১০ থেকে ১২ জন চিকিৎসক এ বিষয়ে উচ্চশিক্ষার সুযোগ পাবেন।উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব সৈয়দ মঞ্জুরুল ইসলাম। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন- স্বাস্থ্যমন্ত্রী মোহাম্মদ নাসিম, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী জাহিদ মালেক, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের (ডিএসসিসি) মেয়র সাঈদ খোকন ও সেনাপ্রধান জেনারেল আবু বেলাল মোহাম্মদ শফিউল হক প্রমুখ।