স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় কারাগারে নারী

নিজস্ব প্রতিবেদক: সাবেক স্বামীর বিরুদ্ধে মিথ্যা ধর্ষণ মামলা করায় কেরানীগঞ্জের আগানগর এলাকার এক নারীকে কারাগারে পাঠিয়েছে ঢাকার একটি আদালত।সোমবার ঢাকার ১ নম্বর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের বিচারক জেসমিন আরা বেগম এ আদেশ দেন।ওই নারীর বিরুদ্ধে পরে অভিযোগ গঠন করে বিচারক শাস্তি দিতে পারেন বলে জানিয়েছেন হয়রানির শিকার মুদি ব্যবসায়ী নজরুল ইসলামের আইনজীবী এম কামাল উদ্দিন আহমেদ।

নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের ১৭ ধারা অনুযায়ী, মিথ্যা মামলার দায়ে এই নারীর অনধিক ৭ বছর সশ্রম কারাদণ্ড এবং একই সঙ্গে অর্থদণ্ডও হতে পারে।এদিকে, এরই মধ্যে ওই নারীর মিথ্যা মামলায় ৭ মাস সাজাভোগ করেছেন সাবেক স্বামী নজরুল।তার বাড়ি পুরান ঢাকার নিমতলীর ৫০ নম্বর নবাব কাটরা রোডে; পেশায় তিনি বেগমবাজারের মুদি ব্যবসায়ী।আইনজীবী কামাল জানান, এই নারী উদ্দেশ্যমূলক তার স্বামীকে হয়রানির জন্য এর আগে ১৬টি মামলা করেছিলেন। এছাড়া আপস মীমাংসা করার কথা বলে এ পর্যন্ত নজরুলের কাছ থেকে ৬ লাখ টাকা আদায় করেছেন।

ধর্ষণ মামলায় নজরুলকে অব্যাহতির সুপারিশ করা চূড়ান্ত প্রতিবেদনে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানার এসআই আসাদুজ্জামান তালুকদার নজরুলের বিরুদ্ধে সাতটি মামলার তালিকা দেন; যার সবগুলোই ওই নারীর দায়ের করা।এসব মামলা থেকে নজরুল ইতোমধ্যে অব্যাহতি ও খালাস পেয়েছেন।মিথ্যা ধর্ষণ মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০১১ সালে তাদের বিয়ে বিচ্ছেদ হয়। তাদের ১১ বছরের কন্যা ও সাত বছরের ছেলে সন্তান রয়েছে।মেয়ে মায়ের কাছে থাকলেও ছেলে থাকছেন তার বাবার কাছে।

গত বছরের ১২ জুলাই দক্ষিণ কেরানীগঞ্জ থানায় ধর্ষণের অভিযোগে তুলে করা মামলায় ওই নারী অভিযোগ করেন, মেয়েকে ঈদের কাপড় দেওয়ার কথা বলে ওইদিন রাত ৮টায় সাবেক স্বামী ইচ্ছার বিরুদ্ধে তার বাবার কেরানীগঞ্জের আগানগরের বাড়িতে তাকে ধর্ষণ করেন।হয়রানির শিকার নজরুল বলেন, “ওই নারী আমার জীবন শেষ করে দিয়েছে। আমার ব্যবসা, টাকা, সময় অপচয় করিয়েছে। আমি আইন অনুযায়ী তার উপযুক্ত শাস্তি চাই।”

নিম্ন আদালতের নারী ও শিশু নির্যাতন মামলার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী সাবেক নারী নির্যাতন দমন ট্রাইবুনালের পিপি আরফান উদ্দিন খান বলেন, “২০০০ সালের আইনে মিথ্যা মামলায় সরাসরি বিচারক বাদীর বিরুদ্ধে শাস্তি দিতে পারতেন। কিন্তু ২০০৩ সালে এ আইন সংশোধনের পর মিথ্যা মামলায় হয়রানির শিকার আসামিপক্ষকে লিখিত অভিযোগ আদালতের সামনে দাখিল করতে হয়। এ আইনের ১৭ ধারার ব্যবহার আদালতে নেই বললেই চলে।এ কারণে মিথ্যা নারী নর্যাতন মামলার সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বলেও মনে করেন তিনি।