পুলিশের বক্তব্য প্রত্যাখ্যান করল ঢাবি শিক্ষার্থীরা

নিজস্ব প্রতিবেদক: তনু হত্যায় জড়িত আসামি গ্রেপ্তারে আন্দোলনের কোনো প্রয়োজন নেই বলে পুলিশ যে বক্তব্য দিয়েছিল- তা প্রত্যাখান করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) শিক্ষার্থীরা।বুধবার (২৯ মার্চ) সকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যান্টিনে তনুর হত্যাকারীদের শাস্তির দাবিতে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে পুলিশের দেয়া এ প্রেসনোট প্রত্যাখান করা হয়। পাশাপাশি তনুর পরিবারকে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী কর্তৃক দেয়া হুমকির ও হয়রানির তীব্র নিন্দা জানানো হয়। কুমিল্লা ভিক্টোরিয়া কলেজের ইতিহাস বিভাগের শিক্ষার্থী সোহাগী জাহান তনু হত্যাকারীদের গ্রেপ্তার ও শাস্তির দাবিতে  গত ক’দিন ধরেই আন্দোলন করছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীরা। গত ২০ মার্চ কুমিল্লা সেনানিবাস এলাকায় তনুকে ধর্ষণের পর হত্যা করে ফেলে রাখা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ঢাবি শিক্ষা্র্থীদের পক্ষে লিখিত বক্তব্য রাখেন উযমা তাজরিয়ান। এসময় উপস্থিত ছিলেন সামান্তা শারমিন, ফারহান শাহরিয়ার প্রমুখ।উজমা তাজরীন বলেন, ‘পুলিশের পক্ষ থেকে বলেছে- তনু হত্যা ও ধর্ষণের ঘটনায় আন্দোলনের প্রয়োজন নেই এবং অপরাধীকে গ্রেপ্তার করা তাদেরও নৈতিক দায়িত্ব। আমরা পুলিশের সাথে একমত পোষণ করে বলতে চাই- আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে চলার কথা। কিন্তু ঘটনার ১০ দিন অতিবাহিত হলেও এখন পর্যন্ত এ ব্যাপারে সুষ্ঠু কোনো পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। বর্ষবরণে যৌন নিপীড়নের ঘটনায় পুলিশের ভূমিকায় আমরা তাদের ওপর আস্থা হারাচ্ছি।’

এদিকে পুলিশের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘তনুর হত্যা নিয়ে আন্দোলন পুলিশের দৃষ্টিগোচর হয়েছে এবং এর গুরুত্ব বুঝে মামলাটি সিইডিতে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। পুলিশের দেয়া বক্তব্যকে প্রশ্নবিদ্ধ করে তাজরীন বলেন, ‘যদি আন্দোলন না হতো তবে কি এ হত্যাকাণ্ডের গুরুত্ব বুঝতেন না তারা?’ তিনি আরো বলেন, ‘গণতান্ত্রিক দেশে আন্দোলন করা, দাবি-দাওয়া পেশ করা জনগণের সাংবিধানিক অধিকার। তদন্ত সংশ্লিষ্ট পুলিশের পক্ষ থেকে যে সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে তা করতে আমরা প্রস্তুত- তবে আন্দোলন ছেড়ে নয়।’ সংবাদ সম্মেলনে তিনি সরকারের কাছে চারটি দাবি ‍তুলে ধরেন। দাবিগুলো হল- তনুর হত্যাকারীদের অবিলম্বে চিহ্নিতকরণ, আটক ও বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি প্রদান; এখন থেকে ধর্ষণের ভিকটিমের নয়, ধর্ষকের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমসহ সকল গণমাধ্যমে প্রকাশ করা; ধর্ষকদেরকে সামজিকভাবে বয়কট করা; স্কুলের প্রাথমিক পর্যায় থেকে পাঠ্যসূচিতে নৈতিক শিক্ষা এবং সঠিক যৌন শিক্ষা ওপর গুরুত্বারোপ করা।