পাঁচ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলো নির্বাচন কমিশন

নিজস্ব প্রতিবেদক: প্রথম ধাপের ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচনে সাতক্ষীরা জেলার অনিয়ম নিয়ে আয়োজিত শুনানিতে পাঁচ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) কঠোর ভাষায় ভর্ৎসনা করলো নির্বাচন কমিশন। একই সঙ্গে দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোরভাবে চার্জশিট গঠনের জন্য পুলিশ সুপারকে (এসপি) নির্দেশ দেয়া হয়েছে। গত ২২ মার্চে ভোটগ্রহণের আগের রাতেই সাতক্ষীরার তালা, সদর উপজেলা, শ্যামনগর, কলারোয়া ও বেদহাটা উপজেলায় ব্যালটে সিল মারা এবং ভোটের দিন জালিয়াতির ঘটনা ঘটে। পরে ইসিতে অভিযোগ এলে ১৪টি কেন্দ্রের ভোট বাতিল করা হয়।নির্বাচনী অনিয়মরোধে পুলিশের গুলিতে দু’জন দুষ্কৃতিকারী আহত হয়ে গ্রেপ্তার হয়েছে। এসব ঘটনার কারণ ব্যাখ্যা করতে গত সোমবার সাতক্ষীরার এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীরসহ সংশ্লিষ্ট পাঁচ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তাকে (ওসি) তলব করে নির্বাচন কমিশন।

বুধবার তারা শুনানিতে অংশ নিয়ে ঘটনার দিন পুলিশের ভূমিকা ও কারণ ব্যাখ্যা করেন। বৈঠক সূত্র জানায়, শুনানিতে প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কাজী রকিবউদ্দীন আহমদ পুলিশ কর্মকর্তাদের প্রতি চরম ক্ষোভ প্রকাশ করেন। ওসিরাও অনিয়ম রোধে নির্বাচনী বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেয়া ছাড়াও গুলি চালানোর বিষয়টি সামনে আনেন। পাঁচ ওসি এবং পুলিশ সুপারের বক্তব্য শোনার পর মামলার চার্জশিট কঠোরভাবে সম্পন্ন করার নির্দেশ দেন সিইসি। দুষ্কৃতিকারীদের কঠোর সাজা হওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথাও বলে তিনি।

শুনানিতে জ্যেষ্ঠ নির্বাচন কমিশনার মো. আব্দুল মোবারক বলেন, আপনারা নির্বাচনী বিধি ভঙ্গ করার দায়ে ব্যবস্থা নিয়েছেন। কিন্তু ভোটের আগের রাতে কেন্দ্রের দরজা ভেঙে ভোট কারচুপি হয়েছে, সেজন্য প্রচলিত পুলিশ আইনে কেন ব্যবস্থা নেননি? নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ বলেন, মামলা করেছেন কিন্তু এখানো তো কাউকে গ্রেপ্তার করেননি। অথচ তারা তো আপনাদের সামনেই ঘুরে বেড়ায়। বুধবার ইসির সভাকক্ষে বেলা সাড়ে ১১টার দিকে শুরু হয়ে শুনানি শেষ হয় দুপুর আড়াইটায়। এরপর এসপি চৌধুরী মঞ্জুরুল কবীর সাংবাদিকদের বলেন, ‘তার বক্তব্য সুস্পষ্ট, আর তা হচ্ছে, সাতক্ষীরার নির্বাচনী অনিয়ম নিয়ে তার কোনো বক্তব্য নেই।’ এভাবে তাকে তিনবার প্রশ্ন করলে তিনি একই উত্তর দেন।

বিকেল ৩টার দিকে নিজ কার্যালয়ে  নির্বাচন কমিশনার মো. শাহ নেওয়াজ সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তরে বলেন, কিছুকিছু ত্রুটির কারণে সাতক্ষীরার পুলিশ প্রধান ও ওসিদের ডেকেছিলাম। তাদের বক্তব্য শুনে বেশ কিছু নির্দেশনা দিয়েছি। এছাড়া ধরিয়ে দিয়েছি কোথায় কোথায় অনিয়ম আছে। কোথায় কোথায় ভুল আছে, তারাও বুঝতে পেরেছে। তিনি আরো বলেন, শুনানিতে তাদের ব্যাখ্যায় সন্তুষ্টি এবং অসন্তুষ্টি দু’টোই জানিয়েছি। তারা অঙ্গীকার করেছেন এ ধরনের ভুলগুলো হবে না।