পাউবো রাজশাহী জোনের প্রধান প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: ডিপিজি বরাদ্দের টাকা, অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা, জমানতের টাকা আত্মাসাৎসহ হাফ ডজন দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) রাজশাহী জোনের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মমতাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে। অভিযোগগুলোর মধ্যে জ্ঞাতআয় বহির্ভূত সম্পদ অর্জনের কথাও বলা হয়েছে। আর এসব অভিযোগ যাচাই-বাছাই শেষে অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

এজন্য দুদকের উপপরিচালক সহকারী পরিচালক মো. আমিরুল ইসলামকে অনুসন্ধান কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব দিয়েছে কমিশন। একই সঙ্গে এই অনুসন্ধান কাজের তদারকির দায়িত্ব দেয়া হয়েছে দুদকের উপপরিচালক খায়রুল হুদাকে।

অনুসন্ধানের শুরুতেই আগামী ১৫ তারিখ প্রধান প্রকৌশলীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি পাঠিয়েছেন অনুসন্ধান কর্মকর্তা আমিরুল ইসলাম। নোটিসে তার যাবতীয় সম্পদের হিসাব নিয়ে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে ওই দিন সকাল ১০টায় হাজির হতে বলা হয়েছে। দুদক সূত্র বাংলামেইলকে এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।

পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) রাজশাহী জোনের প্রধান প্রকৌশলী একেএম মমতাজ উদ্দিনের বিরুদ্ধে আসা অভিযোগ বলা আছে, পাউবোর অধিনে উন্নয়নমূলক বরাদ্দ ডিপিজি প্রকল্পের মোট টাকা হতে পাজেরো গাড়ি ক্রয় দেখিয়ে ৫০ লাখ টাকা আত্মাসাৎ করেন তিনি। এছাড়া একেএম মমতাজ উদ্দিন ব্রহ্মপুত্র বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ নির্মাণ প্রকল্পের অধিগ্রহনকৃত জমির টাকা, মামলার ক্ষতিপূরণের টাকা, দরপত্র জামানতের বাজেয়াপ্ত টাকা, গাছপালার খেসারত ও অপসারণের টাকা আত্মসাৎ করেছেন। আর এভাবে অল্প সময়ে জ্ঞাত আয় বহির্ভূত (অবৈধ) বিপুল পরিমান সম্পদ অর্জন করেছেন। যা তার বৈধ আয়ের সঙ্গে সমাঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে দুদকে পাঠানো অভিযোগে বলা আছে।

দুদক সূত্র জানায়, এসব অভিযোগ দুদকে এলে তা আমলে নিয়ে যাচাই-বাছাই শেষে অভিযোগটি যথাযথ হয়েছে বলে মনে হওয়ায় অনুসন্ধানের সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন। এই অনুসন্ধানের শুরুতেই নব-নিযুক্ত অনুসন্ধান কর্মকর্তা গত বুধবার তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তলব করে চিঠি পাঠান। চিঠিতে একেএম মমতাজ উদ্দিনের যাবতীয় সম্পদের হিসাব এবং তার স্ত্রী, মাতা, ছেলে-মেয়ে নামে অর্জিত স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তির রেকর্ডপত্র। আর এসব সম্পদ অর্জনের অর্থ ও আয়ের স্বপক্ষে তথ্য প্রমাণ নিয়ে আগামী ১৫ মার্চের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে হাজির হতে বলা হয়েছে।