দুদক চেয়ারম্যান পদে সাবেক সচিব ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগ

নিজস্ব প্রতিবেদক: দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) চেয়ারম্যান পদে সাবেক সচিব ইকবাল মাহমুদকে নিয়োগ দেয়া হয়েছে। তিনি দুদকের চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামানের স্থলাভিষিক্ত হলেন। সেই সঙ্গে সংস্থাটির তদন্ত বিভাগের কমিশনার পদে নিয়োগ পেয়েছেন সাবেক জজ এএসএম আমিনুল ইসলাম। তিনি নিয়োগ পেয়েছেন বর্তমান কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুর পদে।

বৃহস্পতিবার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়। প্রজ্ঞাপনটি আজকের মধ্যে দুদকের প্রধান কার্যালয়ে এসে পৌঁছাতে পারে বলে সংস্থাটির সচিবের দপ্তর সূত্রে জানা গেছে।

১৩ মার্চ রোববার পর্যন্ত চেয়ারম্যান মো. বদিউজ্জামান ও কমিশনার মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পু কমিশনের নিয়মিত দায়িত্ব পালন করবেন। এরপর থেকে নিয়োগপ্রাপ্ত নতুন চেয়াম্যান ও কমিশনার তাদের দায়িত্ব বুঝে নেবেন।

এদিকে দুদকের গুরুত্বপূর্ণ দুই পদে আসা নতুন মুখ সম্পর্কে জানা যায়, প্রশাসন ক্যাডারের ৮১ ব্যাচের কর্মকর্তা ছিলেন ইকবাল মাহমুদ। এর আগে তাকে বিটিআরসি’র চেয়ারম্যান পদে নিয়োগ দেয়া হলেও যোগদান করেননি। ইকবাল মাহমুদ জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের সিনিয়র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। গত বছরের ২৯ নভেম্বর তিনি অবসরোত্তর ছুটিতে যান। এছাড়া তিনি এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের বিকল্প নির্বাহী পরিচালক হিসেবেও কাজ করেন। অপরদিকে নিয়োগপ্রাপ্ত কমিশনার এএসএম আমিনুল ইসলাম ঢাকা বিশেষ জজ আদালত-১ এর জজ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। সেখান থেকে বর্তমান অবসরপ্রাপ্ত।

এর আগে গত ২ ফেব্রুয়ারি দুর্নীতি দমন কমিশন আইন-২০৪ এর ৬(১) ধারা অনুসারে মন্ত্রিপরিষদ বিভাগ গঠন করে পাঁচ সদস্যের একটি বাছাই কমিটি। এ কমিটির প্রধান ছিলেন সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেন। কমিটির অন্য সদস্যরা হলেন, হাইকোর্টের বিচারপতি এম মোয়াজ্জেম হোসেন, মহাহিসাব নিয়ন্ত্রক ও নিরীক্ষক (সিএজি) মাসুদ আহমেদ, পাবলিক সার্ভিস কমিশনের চেয়ারম্যান ইকরাম আহমেদ ও মন্ত্রিপরিষদের সাবেক সচিব এম আব্দুল আজিজ। এর মধ্যে কমিটির সাচিবিক দায়িত্ব দেওয়া হয় অবসরপ্রাপ্ত মন্ত্রিপরিষদ সচিব এম আবদুল আজিজকে। কঠোর গোপনীয়তার মধ্য দিয়ে পরিচালিত হয় কমিটির বাছাই কার্যক্রম।

মাহমুদ হোসেনের সভাপতিত্বে ওই বাছাই কমিটির কয়েক দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। সর্বশেষ গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বিকেল সোয়া ৪টা থেকে সাড়ে ৫টা পর্যন্ত সোয়া ঘন্টার এসব নিয়োগ দেয়ার জন্য ‘উপযোগী’ হিসেবে ৪ জনের নাম আলোচিত হয়। ২টি পদের বিপরীতে বাছাই কমিটির সুপারিশকৃত ৪ জনের মধ্যে দুদক আইনের ৭ ধারা অনুযায়ী রাষ্ট্রপতি ২ জনকে নিয়োগ দেন।