এসব ডিগ্রি দিয়ে এখন বিয়ে করা যায় না

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারিগরি শিক্ষার গুরুত্ব তুলে ধরে শিক্ষামন্ত্রী নুরুল ইসলাম নাহিদ বলেন, ‘পেটে ভাত নাই, আমরা বড় বড় ডিগ্রি চাই। এত বড় ডিগ্রি দিয়ে কি হবে? এসব ডিগ্রি দিয়ে এখন বিয়ে করা যায় না। আমাদের মেয়েরা এখন শিক্ষিত হচ্ছে।’এ সময় তিনি কারিগরি শিক্ষার প্রয়োজনীয়তা, বর্তমান অবস্থা এবং ভবিষৎ পরিকল্পনা তুলে ধরেন।ঢাকায় ব্যানবেইস মিলনায়তনে সোমবার ইউনেস্কো পার্টিসিপেশন প্রোগ্রামের সমাপনী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন। অনুষ্ঠানে ২০১৪-১৫ সালে ইউনেস্কো অর্থায়নে বাস্তবায়িত পাঁচটি প্রকল্প উপস্থাপন করা হয়।দেশের উন্নয়নে সদস্যভিত্তিক প্রকল্প গ্রহণের ওপর জোর দিয়ে তিনি বলেছেন, নিজেদের জ্ঞান, দক্ষতা দিয়ে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান করতে হবে। বিশ্বায়নের এ যুগে টিকে থাকতে হলে বিশ্বমানের জ্ঞান দক্ষতা অর্জনের বিকল্প নেই।

কারিগরি শিক্ষা প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, ‘জার্মানের ৭০ ভাগ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষা নিচ্ছে। আমরা যদি বলি আপনার সন্তানকে কারিগরি শিক্ষা দেন, তখন মানুষ লজ্জা পায়। কারিগরি শিক্ষা ছাড়া ভাগ্যের উন্নয়ন সম্ভব না- এটা আমাদের বুঝতে হবে। পরিস্থিতি আগের চেয়ে অনেক ভালো। আশা করি ২০২০ সালের মধ্যে আমাদের ২০ শতাংশ শিক্ষার্থী কারিগরি শিক্ষায় অন্তর্ভুক্ত হবে।’তিনি বলেন, নারীর ক্ষমতায়ন মানে নারী-পুরুষ সমান সুযোগ-সুবিধা ভোগ করবে। নারীর ক্ষমতায়ন মানে মাথা নত না করা।৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি বলেন, শিক্ষার মাধ্যমে নারী-পুরুষের সমতা নিশ্চিত করতে হবে। নারীকে দুর্বল ভেবে তাকে যেমন আঘাত যাবে না, তেমনি পুরুষকেও আঘাত করা যাবে না। কারণ নারী-পুরুষ সমান সুবিধা ভোগ করবে এটাই নারীর ক্ষমতায়ন। নারী-পুরুষের সমতাই নারীর ক্ষমতায়ন। নারীদের নির্ভরশীলতা পরিহার করতে হবে। সঠিক শিক্ষার মাধ্যমে মানুষের মনের কূটিলতা দূর করতে পারলেই নারীর ক্ষমতায়ন নিশ্চিত হবে।

ইউনেস্কোর এক কোটি টাকা সহায়তায় বাস্তবায়িত পাঁচটি প্রকল্পের মধ্যে রয়েছে- কলেজ শিক্ষকদের প্রশিক্ষণ ম্যানুয়েল প্রকাশ, বেসরকারি কলেজের গ্রন্থগারিকদের প্রশিক্ষণ, রাজধানীর অদূরে সাভারে বংশী নদী রক্ষায় শিক্ষার্থীদের সম্পৃক্তকরণ, পালা গানের মাধ্যমে সুনামগঞ্জে নারীর অধিকার রক্ষা আন্দোলন এবং লোক সংগীত শিল্পী আব্দুল আলীমের জীবন ও কর্মের ওপর গবেষণা।সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষায় বিশ্বসংস্থা ইউনেস্কোর উদ্যোগের প্রশংসা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, মুক্ত আকাশ সংস্কৃতির এ যুগে নিজস্ব সংস্কৃতি বেশি বেশি চর্চার মাধ্যমেই নতুন প্রজন্মকে অপসংস্কৃতির আগ্রাসন থেকে রক্ষা করা সম্ভব।অনুষ্ঠানে শিক্ষা সচিব মো. সোহরাব হোসাইন, ঢাকায় ইউনেস্কো কার্যালয়ের প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট কিচি ইয়াসো এবং বাংলাদেশ ইউনেস্কো জাতীয় কমিশনের সচিব মো. মনজুর রহমানও বক্তৃতা করেন।