টি-টোয়েন্টিতে লঙ্কা গেরো খুলতে চায় বাংলাদেশ

স্পোর্টস ডেস্ক: শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৮ ওয়ানডে খেলে বাংলাদেশের চারটি জয় থাকলেও চারটি টি-টোয়েন্টি খেলে হার সব কটিতেই। আজ এশিয়া কাপ টি-টোয়েন্টিতে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে এই ফরম্যাটে প্রথম জয় তুলে নিতে পারবে বাংলাদেশ? জবাবটা রাতেই পাওয়া যাবে। মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচটি শুরু হবে সন্ধ্যা সাড়ে সাতটায়। তার আগে বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কার আগের টি-টোয়েন্টি ম্যাচগুলো একটু ফিরে দেখা যাক। বাংলাদেশ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে প্রথম টি-টোয়েন্টি খেলেছিল ২০০৭ বিশ্বকাপে। জোহানেসবার্গে সে ম্যাচে ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় হেরেছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের দল। ১৪৮ রান তাড়া করতে নেমে মাত্র ৮৩ রানে অলআউট হয়ে বাংলাদেশ ম্যাচ হেরেছিল ৬৪ রানে। ওই ৮৩ রান টি-টোয়েন্টিতে এখন পর্যন্ত বাংলাদেশের দ্বিতীয় সর্বনিম্ন স্কোর। আর সর্বনিম্ন ৭৮, ২০১০ সালে হ্যামিল্টনে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে।

এরপর ২০১৩ সালে পাল্লেকেলেতে সিরিজের একমাত্র টি-টোয়েন্টিতে মুখোমুখি হয়েছিল বাংলাদেশ-শ্রীলঙ্কা। ম্যাচটিতে অবশ্য লড়াই করেই হেরেছিল মুশফিকুর রহিমের দল। শ্রীলঙ্কার দেওয়া ১৯৯ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে বাংলাদেশ করেছিল ১৮১ রান। হার ১৭ রানের। বাংলাদেশের পক্ষে আশরাফুল সর্বোচ্চ ৪৩ রান করেছিলেন ২৭ বলে।আর সর্বশেষ ২০১৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে দুই ম্যাচ সিরিজের দুটি-টোয়েন্টিতেই শ্রীলঙ্কার কাছে হেরে যায় বাংলাদেশ। তবে দুটি ম্যাচই ছিল উত্তেজনায় ঠাসা। দুটি ম্যাচেরই ফল নির্ধারণ হয়েছিল শেষ বলে।চট্টগ্রামের জহুর আহমেদ স্টেডিয়ামে সেবার প্রথম ম্যাচে আগে ব্যাট করে ১৬৮ রান করেছিল শ্রীলঙ্কা। ১৬৯ রান তাড়া করতে নামা বাংলাদেশের জয়ের জন্য শেষ ওভারে প্রয়োজন ছিল ১৭ রান, যা শেষ তিন বলে দাঁড়ায় ১১ রানে। পরের দুই বলে থিসারা পেরেরাকে টানা দুটি চার মেরে স্বাগতিকদের জয়ের দারুণ সম্ভাবনা জোরালো করেছিলেন এনামুল হক বিজয়।

শেষ বলে চাই ৩ রান। কিন্তু পেরেরার ফুলটাস বলে এনামুল ফিরতি ক্যাচে পরিণত হলে ২ রানে হেরে যায় বাংলাদেশ। যদিও পেরেরার ওই ফুলটাস বলটি ‘নো’ হতে পারত বলেও বিতর্ক আছে!একই মাঠে পরের ম্যাচে বাংলাদেশের দেওয়া ১২১ রান তাড়া করতে নেমে শেষ ওভারে শ্রীলঙ্কার জয়ের জন্য প্রয়োজন ছিল ৯ রান, যা শেষ বলে দাঁড়ায় ২ রানে। ফরহাদ রেজাকে স্কয়ার লেগ দিয়ে চার মেরে লঙ্কানের ৩ উইকেটের নাটকীয় জয় এনে দিয়েছিলেন সাচিত্রা সেনানায়েকে।টি-টোয়েন্টিতে জয় না পেলেও বাংলাদেশ অনুপ্রেরণা নিতে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা ওয়ানডে থেকেই। ২০১২ সালে এই এশিয়া কাপেই তো বৃষ্টিবিঘ্নিত ম্যাচে শ্রীলঙ্কাকে ৫ উইকেটে হারিয়ে ফাইনালে উঠেছিল বাংলাদেশ। আজকের ম্যাচটিও বাংলাদেশের জন্য ‘ফাইনালে’ ওঠার লড়াই-ই বটে। আজ শ্রীলঙ্কাকে হারাতে পারলে এশিয়া কাপের ফাইনালে ওঠার পথ খোলা থাকবে বাংলাদেশের। আর হারলে সে পথ অনেকটাই বন্ধ হয়ে যাবে।

শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে জেতা বাংলাদেশের চারটি ওয়ানডের দুটিই ছিল মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে। আর এই দুটি ম্যাচেই বাংলাদেশের জয়ের অন্যতম কারিগর ছিলেন সাকিব আল হাসান। ২০০৯ সালে সাকিবের ৬৯ বলে অপরাজিত ৯২ রানের দুর্দান্ত এক ইনিংস বাংলাদেশকে জয়ের আনন্দে ভাসিয়েছিল। ২০১২ এশিয়া কাপেও দলের জয়ে সাকিব খেলেছিলে ৪৬ বলে ৫৬ রানের কার্যকরী এক ইনিংস।সম্প্রতি অবশ্য তেমন একটা ছন্দে নেই সাকিব। এশিয়া কাপে প্রথম দুই ম্যাচে ভারতের বিপক্ষে করেছেন ৩ রান, আর সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে ১৩। বল হাতে অবশ্য দুই ম্যাচে ৩ উইকেট নিয়েছেন। তবে আজ শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে অতীত ওয়ানডের অনুপ্রেরণা নিয়ে টি-টোয়েন্টিতে ব্যাট হাতেও জ্বলে উঠতে পারেন বাংলাদেশের অনেক ম্যাচ জয়ের নায়ক সাকিব। বোলিংয়ে দারুণ করা মুস্তাফিজ, মাশরাফি, আল-আমিনের সঙ্গে সাকিব, মুশফিক, মাহমুদউল্লাহরা ব্যাট হাতে জ্বলে উঠলে বাংলাদেশও পেয়ে যেতে পারে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে টি-টোয়েন্টিতে প্রথম জয়।