ভারতে জাতিগত ও ধর্মীয় হিংসা বাড়ছে: অ্যামনেস্টি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতে সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও ধর্মীয় হিংসার ঘটনা বাড়ছে বলে অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের এক প্রতিবেদনে উঠে এসেছে। তাতে বলা হয়েছে, এসব ক্ষেত্রে ভারতের পরিস্থিতি রীতিমতো উদ্বেগজনক।

বুধবার বিবিসি অনলাইনের এক প্রতিবেদনে এ খবর জানা যায়।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টির পক্ষ থেকে লন্ডনে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়, গত এক বছরে ভারতে সাম্প্রদায়িক হিংসার শত শত ঘটনা ঘটেছে যা প্রশাসন রুখতে পারেনি। বরং কোনো কোনো রাজনীতিক সরাসরি হিংসায় প্ররোচনা দিয়ে বক্তৃতা দিয়েছেন।

গরু পাচার বা গরুর মাংস খাওয়া হচ্ছে, শুধু এই সন্দেহের বশে অন্তত চারজন মুসলিমকে পিটিয়ে মারা হয়েছে।

লন্ডনে অ্যামনেস্টির দক্ষিণ এশিয়া শাখার অধিকর্তা চম্পা প্যাটেল বিবিসিকে বলেন, ‘‘আমাদের নথিপত্রে এটা স্পষ্ট যে ভারতে সাম্প্রদায়িক, জাতিগত ও ধর্মীয় হিংসার ঘটনা বাড়ছে। যদিও ভারতে এই ধরনের ঘটনা ঐতিহাসিকভাবেই ঘটে আসছে, কিন্তু এখন যেটা আমরা দেখছি যে শুধু একজন মানুষকে তার ধর্মের কারণে বৈষম্যের শিকার হতে হচ্ছে।’’

চম্পা প্যাটেল আরও বলেন, “রিপোর্টে আমরা বলেছি কীভাবে মুসলিমরা আক্রান্ত হচ্ছেন, মণিপুরে আদিবাসীরা নিজেদের অধিকার আদায়ে প্রাণ হারাচ্ছেন। সবচেয়ে যেটা উদ্বেগের কথা, ধর্মের কারণে এই বৈষম্য করার জন্য কাউকে কিন্তু বিচারের মুখোমুখি হতে হচ্ছে না।’’

ভারতে মুসলিম সম্প্রদায়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী সংগঠন, অল ইন্ডিয়া মুসলিম পার্সোনাল ল বোর্ডও এই পর্যবেক্ষণের সঙ্গে মোটামুটি একমত।

বোর্ডের প্রবীণ সদস্য ও লখনৌতে মুসলিম সমাজের নেতা জাফরিয়াব জিলানি বলেন, ২০১৪ সালের  নির্বাচনের পর থেকেই ভারতে যেকোনো ইস্যুকে একটা সাম্প্রদায়িক রং দেওয়ার চেষ্টা শুরু হয়েছে।  ২০১৯ সালে দেশে পরবর্তী নির্বাচন পর্যন্ত এই চেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলে আশঙ্কা করছেন তিনি।

শুধু সাম্প্রদায়িক সহিংসতাই নয়, অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল সরব হয়েছে ভারতে ইদানীং বাকস্বাধীনতার অধিকার যেভাবে খর্ব হচ্ছে, তার বিরুদ্ধেও।

সম্প্রতি দিল্লির জহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্রনেতা কানহাইয়া কুমারকে যেভাবে দেশদ্রোহ আইনে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, সেই প্রসঙ্গ টেনে অ্যামনেস্টির চম্পা প্যাটেল বলেন, সরকার ভারতে ভিন্নমতকে স্তব্ধ করে দিতে চাইছে।

চম্পা প্যাটেল বলেন, “শুধু আপনার মতের বিপক্ষে কথা বললেই যেভাবে দেশবিরোধী বলে চিহ্নিত করা হচ্ছে, তাতে আমরা বলতে বাধ্য হচ্ছি ভারতীয় কর্তৃপক্ষ প্রতিবাদের বিরুদ্ধে চরম অসহিষ্ণুতার পরিচয় দিচ্ছে।”

বিবিসি জানায়, অ্যামনেস্টির এই রিপোর্ট নিয়ে ভারতের সরকারের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে পার্লামেন্টের ভেতরে বা বাইরে কোনো প্রতিক্রিয়া দেওয়া হয়নি।

তবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র বিবিসির কাছে দাবি করেন, দেশে গত এক বছরে সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা বেড়েছে এমন কোনো পরিসংখ্যান তাদের কাছে নেই। তবে তিনি দাবি করেন, সাম্প্রদায়িক হিংসার ঘটনা  অনেকটা কমেছে।