জরুরি আইনে নিগ্রহের শিকার ফ্রান্সের মুসলমানরা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : বিভিন্ন ভাবে নিগ্রহের শিকার হতে হচ্ছে ফ্রান্সের সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের। প্যারিসে সাম্প্রতিক সন্ত্রাসী হামলার পরে গত জানুয়ারি মাসে দেশব্যাপী জরুরি অবস্থা জারি করেছে দেশটির সরকার। এই আইনের সুযোগে দেশটির মুসলিম নাগরিকদের বাড়িঘরে নিরাপত্তা তল্লাশির অযুহাতে যখন তখন ঢুকে পড়ছে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যরা। রাস্তায় চলাফেরার ক্ষেত্রেও হেনস্তার শিকার হতে হচ্ছে দেশটির মুসলিম নাগরিকদের। জরুরি অবস্থার মেয়ার আরো তিন মাস বাড়ানোর কথা বিবেচনা করছে দেশটির সরকার। এই ঘোষণার পরে মুসলিম নাগরিকদের উপর সাম্প্রতিক সময়ে পুলিশি নির্যাতন ও নিগ্রহ নিয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন। সম্প্রতি জরুরি অবস্থার সময় বাড়ানোর কথা জানিয়েছেন সরকারের মুখপাত্র স্টেফেন লি ফল। তিনি বলেন, সন্ত্রাসী হামলার হুমকি ফ্রান্স এবং ইউরোপে এখনও বেশ প্রবল। সেই কারনে জরুরি অবস্থা বহাল রাখা প্রয়োজন। ওই ঘটনার পর সম্ভাব্য সন্ত্রাসী ও তাদের সহযোগিদের ধরতে ফ্রান্স জুড়ে কমপক্ষে ৩ হাজার ২০০টি অভিযান চালিয়েছে দেশটির পুলিশ। এসব অভিযানে ৩০০ থেকে ৪০০ ব্যক্তিকে আটক করেছে পুলিশ। অভিযানে আটক অধিকাংশ নাগরিক পুলিশ সদস্যদের হাতে নিগ্রহের শিকার হওয়ার অভিযোগ করেছেন। মানবাধিকার সংগঠন এইচ আর ডবিøওর গবেষক ইজ্জা লেগতাস বলেছেন, জননিরাপত্তা নিশ্চিত করা ফ্রান্সের দায়িত্ব। কিন্তু এই দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে পুলিশ অহেতুক নাগরিকদের বিশেষ করে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের মানুষদের সঙ্গে অসদাচরণ করছে। এতে ভীত হয়ে পড়ছেন দেশটির মুসলিম পরিবারগুলো। তাদের মধ্যে এই ধারণা স্পষ্ট হয়ে উঠছে যে, ফ্রান্সে তারা দ্বিতীয় শ্রেণির নাগরিক। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর ফ্রান্সে এতো দীর্ঘ সময় জরুরি অবস্থা রাখা হয়নি। বিদ্যমান জরুরি অবস্থার মেয়াদ শেষ হচ্ছে আগামী ২৬ ফেব্রæয়ারি। জরুরি অবস্থায় পুলিশকে বিনা ওয়ারেন্টে সন্দেহভাজন যে কোন বাড়িতে কিংবা রাস্তায় চলাচলকারী যে কোন নাগরিককে তল্লাশি করার ক্ষমতা দেয়া হয়েছে। জরুরি অবস্থার মেয়াদ আরো তিন মাস বাড়ানোর সরকারি পরিকল্পনার প্রতিবাদ করেছে দেশটির অধিকাংশ জনগন। গত শনিবার প্যারিসের রাস্তায় জড়ো হয়ে এই প্রতিবাদে যোগ দিয়েছে হাজারো মানুষ। একই সঙ্গে সন্ত্রাসের দায়ে অভিযুক্ত হলে দ্বৈত নাগরিকদের নাগরিকত্ব বাতিলে দেশটির প্রেসিডেন্ট ফ্রাঁসোয়া ওঁলাদের পরিকল্পনার কঠোর সমালোচনা করেছে তারা। প্রেসিডেন্টের এই পরিকল্পার প্রতিবাদে দুই সপ্তাহ আগে মন্ত্রিসভা থেকে পদত্যাগ করেছেন আইনমন্ত্রী  ক্রিসটিন তাওবিরা।