কুষ্টিয়ায় সর্বশান্ত চাতাল মালিকরা

ডেস্ক রিপোর্ট : কুষ্টিয়ায় চাল ব্যবসায়ী দুই সহোদরের খপ্পরে পড়ে খাজানগর চালের মোকামের অর্ধ শতাধিক চাতাল মালিক পুঁজি হারিয়ে সর্বশান্ত হয়েছেন। ওই দুই ব্যবসায়ীর কাছে চাতাল মালিকদের বকেয়া পাওনা তিন কোটি টাকা আদায়ে সালিশ-বৈঠক ও দেন-দরবার করেও কোন ফল হয়নি। অবশেষে নিরুপায় চাতাল মালিকরা পাওনা টাকা আদায়ে আদালতের শরণাপন্ন হন। প্রতারক সহোদর ওই দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে ৫ জন চাতাল মালিক আদালতে পৃথক পৃথক ৯টি মামলা দায়ের করেছেন। সরেজমিন খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, দেশের দ্বিতীয় বৃহত্তম খাজানগর চালের মোকাম সংলগ্ন কবুরহাট দোস্তপাড়া এলাকার আব্দুল আজিজের দুই ছেলে শাকিল ও মিন্টু চাতাল মালিকদের কাছ থেকে পাইকারী চাল ক্রয় করে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করতেন। দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সম্পর্কের কারণে ওই দুই সহোদর অর্ধ শতাধিক চাতাল মালিকের সাথে সুসম্পর্ক গড়ে তোলে এবং কৌশল অবলম্বন করে তাদের কাছ থেকে ধাপে ধাপে বাকিতে বিপুল পরিমান চাল ক্রয় করেন। বাকিতে পাইকারী চাল ক্রয় ও লেনদেনের এক পর্যায়ে ওই দুই ব্যবসায়ী শাকিল ও মিন্টু চাতাল মালিকদের বকেয়া তিন কোটি টাকা আটকে দেয়। চাতাল মালিকরা পাওনা টাকার জন্য সহোদর দুই ব্যবসায়ীর কাছে বারবার ধর্ণা দিয়েও কোন ফল পাননি। এক পর্যায়ে চাতাল মালিকরা চাপ সৃষ্টি করলে তারা দুজনই এলাকা ছেড়ে গা ঢাকা দেন। কিছুদিন পর তারা আবার তারা এলাকায় ফিরে আসেন।
পরবর্তীতে চাতাল মালিকরা ওই সহোদর ব্যবসায়ীর ছলচাতুরী ও প্রতারণার বিষয়টি বুঝতে পেরে টাকা আদায়ে স্থানীয়ভাবে একাধিক শালিশ-বৈঠক করেন। সালিশ-বৈঠকের পর একটি জুরি বোর্ড গঠন করা হয় এবং চাতাল মালিকদের চাপেরমুখে পাওনাদারদের মধ্যে ৮/১০ জনকে চেক প্রদান করা হয়। কিন্তু তাদের এ্যাকাউন্টে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চাতাল মালিকদের দেয়া প্রত্যেকটি চেকই ডিজঅনার হয়। ফলে প্রতারক ওই দুই ব্যবসায়ীর খপ্পরে পড়ে খাজানগর চাল মোকামের অর্ধ শতাধিক চাতাল মালিক পুঁজি হারিয়ে ব্যবসা গুটিয়ে নিয়েছেন। এদিকে প্রতারণার খপ্পরে পড়ে পুঁজি হারানো দিশেহারা চাতাল মালিকরা এখন অসহায় ও বেকার জীবন-যাপন করছেন। তাদের পাওনা টাকা আদায়ে কোন উপায়ন্ত না পেয়ে পাওনাদার বেশ কয়েকজন চাতাল মালিক অবশেষে কুষ্টিয়া চিফ জুডিসিয়াল ম্যজিস্ট্রেট আদালতের দারস্থ হন। প্রতারক ওই দুই ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে পাওনাদার চাতাল মালিকদের মধ্যে বিপ্লব হোসেন বাচ্চু ৪টি, নিজাম উদ্দিন ২টি, মতলেব ১টি, কহিনুর ইসলাম ১টি ও আবু তালেব ১টিসহ আদালতে মোট ৯টি মামলা দায়ের করেন। দিশেহারা চাতাল মালিকরা বকেয়া পাওনা আদায়ে এখন শুধুই আদালতের ওপর ভরসা করে আশায় বুক বেঁধে আছেন। এসব চাতাল মালিকরা বাজার থেকে ধান কিনে ভাড়া মিলে চাল উৎপাদন ও সরবরাহ করতেন। কিন্তু তাদের পুঁজি আটকে থাকায় এখন তাদের ব্যবসা একবারে বন্ধ হয়ে গেছে। ব্যাংক ঋণের বোঝার পাশাপাশি পুঁজি হারানো এসব চাতাল মালিকদের দিন কাটছে অতিকষ্টে।